এশিয়ার প্রধান চাল রফতানিকারক দেশগুলোয় চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে। মার্কিন শুল্কনীতি ঘিরে অনিশ্চয়তা ও মুদ্রাবিনিময় হারের ওঠানামার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা নতুন চাল কেনা থেকে বিরত থাকছেন। এতে চাহিদা কমে যাওয়ায় বাজারে চালের মূল্য পতন ঘটেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ ও রয়টার্স।
বাজারে চালের সরবরাহ মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও বড় পরিসরে খাদ্যপণ্যটির অর্ডার দিচ্ছেন না ক্রেতারা। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চাল রফতানিকারক দেশ থাইল্যান্ডে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম টনপ্রতি নেমে এসেছে ৩৯০ ডলারে, যা ২০২১ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন। গত সপ্তাহে দাম ছিল ৩৯৫-৪০০ ডলার। ব্যাংককভিত্তিক এক ব্যবসায়ী জানান, নিয়মিত ক্রেতারা এখন শুধু প্রয়োজনমাফিক চালই কিনছেন। বড় অর্ডার থেকে বিরত থাকছেন ভবিষ্যতের বাজার পরিস্থিতি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত।
ভারতেও একই চিত্র দেখা গেছে। দেশটির ৫ শতাংশ খুদযুক্ত আধা সেদ্ধ চালের দাম কমে টনপ্রতি ৩৮৮-৩৯৪ ডলারে নেমেছে, যা ২২ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। আগের সপ্তাহে দাম ছিল ৩৯২-৪০০ ডলার। ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সাদা চালের দামও কিছুটা কমে ৩৭৮-৩৮৩ ডলার হয়েছে। মুম্বাইয়ের এক ব্যবসায়ী জানান, অনেক ক্রেতা আরো দাম কমার প্রত্যাশায় এখনই অর্ডার দিচ্ছেন না।
ভিয়েতনামের বাজারেও কমেছে দাম। দেশটির খাদ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম টনপ্রতি ৩৯৯ ডলার, যেখানে আগের সপ্তাহে ছিল ৪০৫-৪১০ ডলার। হো চি মিন শহরের এক ব্যবসায়ী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ট্যারিফ সিদ্ধান্তের কারণে অনেক ক্রেতা এখনই কিনতে আগ্রহী নন। যদিও ট্রাম্প সাময়িকভাবে কিছু শুল্ক স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন, চীনের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এদিকে ভিয়েতনামে এবার প্রধান ধান কাটার মৌসুম শেষের পথে। ফলে দেশীয় সরবরাহও কমে এসেছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, মার্চে দেশটি ১০ লাখ ৮৭ হাজার টন চাল রফতানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ কম।
চলতি ফসল মৌসুমে বাংলাদেশ সরকার ১৭ লাখ টন চাল কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম চাল উৎপাদনকারী দেশটি বর্তমানে ঘরোয়া বাজারে চালের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামাল দিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে কৃষক যেমন ন্যায্যমূল্য পাবেন, তেমনি খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্ববাজারে চালের দাম ও কেনাকাটার গতিপ্রবাহ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে মার্কিন শুল্ক নীতিমালা ও বৈদেশিক মুদ্রার ওঠানামার ওপর, যা স্বল্পমেয়াদে রফতানিকারকদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।